রাজেশ–তাপস কবে বিচার পাবে? ২০ সেপ্টেম্বরের বাংলা ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবি

ABVP 20 September, 2026
রাজেশ–তাপস কবে বিচার পাবে? ২০ সেপ্টেম্বরের বাংলা ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবি

রাজেশ-তাপস কবে বিচার পাবে? পশ্চিমবঙ্গ বাংলা দিবস 

রাজেশ-তাপসের কবে বিচার মিলবে? সন্তান খেকো নির্মমতার রাজ্যে আর কত মায়ের কোল খালি হবে? ঘটনা ঘটেছিল ২০১৮ সালের ২০ শে সেপ্টেম্বর। উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিটে সেই দিন বাংলা ভাষার শিক্ষক চেয়েছিল রাজেশ-তাপসেরা। এই পশ্চিমবঙ্গ নামক রাজ্যেই কেবলমাত্র বাংলা ভাষার জন্যই শিক্ষক চেয়ে পুলিশের গুলিবরণ করেছিল ওঁরা। অপরাধীদের অধিকাংশ ছিল খোদ পুলিশ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি ব্যবস্থাপনায় তরুণ তাজা ছেলের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল! ওরা বাংলা ভাষায়তেই কথা বলতেন! প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন -- মমতার পুলিশ গুলি করেছিল।

 

 স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, মমতা সরকার দাড়িভিট হাইস্কুলে জোর করে উর্দুর শিক্ষক নিয়োগ করতে চেয়েছিল, অথচ স্কুলে কোনও উর্দুর পড়ুয়াই ছিল না। তাহলে কেন নিয়োগ? বাংলার উপর উর্দু চাপানোর বড় ষড়যন্ত্র ছিল। আর তাই স্কুলে বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য তীব্র বিক্ষোভ দেখায় ছাত্রছাত্রীরা। রাজ্যের মন্ত্রী মমতা ঘনিষ্ঠ ববি হাকিম প্রকাশ্যেই বলেছিলেন সেই দিন আর দূরে নেই যেদিন রাজ্যের ৫০ শতাংশ মানুষের ভাষা উর্দু হবে। বলেঞ্চা নদীর পাড়ের শ্মশানে এখনো শায়িত রয়েছে গুলিবিদ্ধ দুটি দেহ? সৎকার হয় নি! অপরাধীদের কবে সামনে আনা হবে এই দাবিতে এখনও অনড় গ্রামবাসী। 

 

একটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের ওপর টিআর গ্যাস এবং লাঠি চার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল পুলিশ। ‘বাংলা ভাষার শিক্ষক চাই’- এই দাবিকে কার্যত সমর্থন জানিয়ে ওই দিন সাধারণ পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। ক্রমেই ছাত্র আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠলে দমন করতে স্থানীয় তৃণমূল দুষ্কৃতীদের মদতে পুলিশ বল প্রয়োগ করতে শুরু করে। স্কুলের অনেক পড়ুয়া লাঠি, টিআর গ্যাসের সেলে গুরুতর আহত হয়। শেষমেষ পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলির আঘাত লাগে রাজেশ সরকার এবং তাপস বর্মণের বুকে। অপর দিকে আরেটি গুলি লাগে বিপ্লব সরকারের পায়ে। পরবর্তী সময়ে বিপ্লব বেঁচে গেলেও রাজেস-তাপসের মৃত্যু হয়। 

 

রাজেশ-তাপসের হত্যাকারী অপরাধীদের ধরা তো দূরের কথা, উল্টে টাকা দিয়ে রাজেশ-তাপসের বাবা-মায়ের পুত্র শোককে কিনতে চেয়েছিলেন মমতা। নাম মাত্র সিআইডি তদন্ত হলেও স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদেরই টার্গেট করেছিল মমতার প্রশাসন। নির্দোষদের গ্রেফতার করে দীর্ঘ দিন জেল বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পরে ১ বছর পর্যন্ত কোনও পুরুষ মানুষ এলাকায় থাকতে পারেনি। মিথ্যা মামলা দিয়েছিল অনেকের নামে। তৃণমূল সরকার যদি এত বাংলা দরদী হতো হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে কেন গ্রেফতার করেনি পুলিশ? 

 

এবিভিপি ঘটনার প্রথম দিন থেকেই ন্যায় বিচার চেয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি করে আসছে। বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে কিন্তু আজও বিচার মেলেনি। ঠিক কারা গুলি করে তরতাজা প্রাণ দুটি কেড়ে নিয়েছিল এই উত্তর আজও পুলিশ দেয়নি।               

স্বাধীন ভারতবর্ষে বাংলা ভাষার জন্য শিক্ষকের দাবিতে আন্দোলন করে আত্মাহুতির ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম। রাজেশ-তাপস যথার্থ বাংলা ভাষার হুত্মাত্মা। তাই ২০ শে সেপ্টেম্বরকে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে এবিভিপি। 

 

অপর দিকে বাঙালি এবং বাংলা ভাষা রক্ষার নামে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের নামে নাটক করছেন। যে রাজ্যে বাংলার শিক্ষক চাওয়ায় দুজন বাঙালি ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়, সেই রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী আর যাই হন কখনই বাংলা ভাষা প্রেমী নন। রাজেশ-তাপস নাম দুটো বাংলা শব্দ। মমতাময়ীর মন আর কবে মমতায় পূরণ হবে? এই বাঙালি সন্তান হারা বাবা মায়ের জন্য কাদবেন না? রাস্তায় নেমে বিচার চাইবেন না? 

নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাজ্যে। সনাতনী সরকারের কাছে বিনম্র আবেদন দোষীদের চিহ্নিত করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করে তদন্ত করা হোক। 

 

সুমন চন্দ্র দাস 

২০/০৯/২০২৬

← হোম পেজে ফিরে যান