রাজ্যের ধর্ম ভিত্তিক শিক্ষা তথা কথিত ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে বিচিত্র উদাহরণ। ১৯৪৯ সালে নভেম্বর বাবা সাহেব আম্বেদকর যে সংবিধানের প্রস্তাবনা রচনা করেছিলেন সেই প্রস্তাবনায় 'ধর্মনিরপেক্ষ', 'সমাজতান্ত্রিক' শব্দ ছিল না। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি ধর্মগ্রন্থ হতে পারে না। আলিয়া বিপথগামী ছিল।
একটা ফাঁক তৈরি করে নিজেদের প্রস্তাবিত মুসলিম লীগের তোষণ নীতিকে স্বাধীনতা উত্তর ভারতে বাস্তবায়ন করতে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন । ৪২ তম সংবিধান সংশোধন করে ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতন্ত্র শব্দকে ঢুকিয়ে দিয়ে বাবা সাহেবের মূল প্রস্তাবনাকে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও সংবিধানের মূল প্রস্তাবনাকে কোন মূল্যেই পরিবর্তন করা যাবেনা বলে বিশেষ সিদ্ধান্ত ছিল কমিটির। প্রস্তাবনার সংশোধন কোন মূল্যেই করা যাবে না। তবুও কায়দা করে কৌশল করে কংগ্রেস আর বামেরা এই অপকর্ম করেছিল। এখন এই সংশোধিত সংবিধান পকেটে নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন তথাকথিত সেকু-মাকু-মাও-মোল্লাতন্ত্রের গবেষকরা।
এই যে কথায় কথায় যারা সংবিধান অসুরক্ষিত হওয়ার কথা বলেন তারা অনৈতিক ভাবে সংশোষিত সংবিধানের কথাই বলেন। এই পরিবর্তিত সংবিধানের শপথ নিয়ে ধর্ম ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ একটা বড় কৌশল। মুসলিম তোষণ আর ভোট অঙ্কের বড় রাজনীতি। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রের উচ্চ শিক্ষা দফতরের, সেখানে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু বা মাদ্রাসার ঘেরাটোপে গড়ে তুলেছিল বিগত তৃণমূল সরকার। এযাবত কাল এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিল না, ছিল মাদ্রাসা।
কোরাণ হাদিস জানা ব্যতীত কোন ব্যক্তি নিয়োগ করা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হারাম ছিল। এটা শিক্ষায় ইসলামীকরণের সর্বোচ্চ উদাহরণ। বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকার ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষা এই কূটরাজনীতির চির অবসান ঘটিয়েছে।
ধন্যবাদ রাজ্য সরকার ও উচ্চ শিক্ষা দফতরকে।
সুমন চন্দ্র দাস
০৮/০৯/২০২৬