মায়ের দুয়ারে মার্ক্সের দোকান

ABVP 19 October, 2026
মায়ের দুয়ারে মার্ক্সের দোকান

সাত দশক ধরে বামপন্থীরা বাঙালিকে শিখিয়ে এসেছে, ধর্ম হল আফিম। অথচ প্রতি অক্টোবরে সেই আফিমের আড্ডার সামনেই তারা দোকান খুলে বসে। পুজোর মণ্ডপের পাশে বামেদের বইয়ের স্টল যেন ভূতের মুখে রাম নাম।

প্রথম স্টলটি বসেছিল ১৯৫৪ সালে, পার্ক সার্কাসে, মুজফফর আহমেদের উদ্যোগে। সত্তর বছর পেরিয়ে গেল। যে দল মা দুর্গার সামনে মাথা নোয়াতে শেখেনি, মায়ের টানে আসা ভিড়ের লোভ সে আজও ছাড়তে পারেনি। এ বছর তো সেই সুযোগের দাবিতে হাইকোর্ট পর্যন্ত ছুটেছে। একে আদর্শ বলে না। এ হল ভিক্ষা, শুধু হাতে একটা বইয়ের তালিকা।

কী বিক্রি হচ্ছে, একবার দেখুন। যে দল হিন্দুর বিশ্বাসকে কুসংস্কার বলেছে, প্রতিমাকে মাটির পুতুল আর ভক্তকে বোকা ঠাউরেছে, সেই দলই আজ ভক্তের পায়ের ধুলো চায়। তাদের ব্যানারে মায়ের নাম নেই, আছে "শারদোৎসব"। তারা উৎসব চায়, দেবী চায় না; ভিড় চায়, ভক্তি চায় না।

তাদের নাস্তিকতা বরাবরই একমুখী। প্রতিমার সামনে তারা নির্ভীক, অথচ অন্য ধর্মের বেলায় হঠাৎ ভারী সংবেদনশীল। এই অঙ্ক বাংলার হিন্দু ভালোই জানে: তাদের জন্য সৎমায়ের হাত, আর যে ভোটব্যাঙ্কের মন জোগাতে এত আয়োজন, তার জন্য আদরের কোল।

এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ২০১৫ সালের অক্টোবরে কলকাতার রাস্তায় প্রকাশ্য "বিফ পার্টি"-তে এই বর্ষীয়ান আইনজীবী নিজের নাম আর গলা, দুই-ই দিয়েছিলেন। হিন্দু পরিবারে জন্মানো একজন জননেতা এমন নাটকে ভুল করে ঢুকে পড়েন না। তিনি জেনেবুঝেই যান, এবং জানেন এই প্রদর্শনী কার বিশ্বাসে আঘাত করার জন্য সাজানো। বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী, গৌতম দেবের দল, যাঁরা সকলেই ঘোষিত বস্তুবাদী, সেই অবজ্ঞাকেই নিজেদের ঘরানা বানিয়ে ফেলেছে।

স্বীকার করে নেওয়া যাক, গণতন্ত্রে বইয়ের দোকান বসানোর অধিকার আছে, সংবিধান লেনিন বিক্রির স্বাধীনতাও দেয়। কিন্তু যে মানুষ ভক্তের মাকে নিয়ে বিদ্রূপ করে, তারপর সেই মায়েরই ভিড়ের সামনে হাত পাতে, তাকে পুরস্কৃত করার কোনও দায় ভক্তের নেই।

মায়ের দুয়ারে বামেদের কাছে বাংলার হিন্দুর কোনও ঋণ নেই। মনোযোগ তো নয়ই।

 

লেখক: উতঙ্ক ব্যানার্জি 

← হোম পেজে ফিরে যান