BRICS Summit ২০২৬: বিকশিত ভারতের পথে

ABVP 14 September, 2026
BRICS Summit ২০২৬: বিকশিত ভারতের পথে

কলমে: উতঙ্ক ব্যানার্জী।

নয়াদিল্লিতে ১৮তম BRICS Summit-এর সফল আয়োজন নিছক আর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সাফল্য নয়; এটি আজকের ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং কূটনৈতিক প্রভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন। এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব রাজনীতি সংঘাত, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও তীব্র মেরুকরণের মধ্য দিয়ে চলেছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত ভিন্ন স্বার্থ ও ভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে থাকা দেশগুলিকে একই মঞ্চে এনে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের পথ দেখিয়েছে। এটাই আজকের ভারতের কূটনীতির পরিবর্তিত চরিত্র—অন্যের তৈরি সমীকরণ মেনে নেওয়া নয়, বরং সেই সমীকরণ নির্মাণে নিজের ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করা।

 

একসময় আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতকে মূলত একটি বৃহৎ বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতি হিসেবেই দেখা হত। আজ সেই ধারণা দ্রুত বদলেছে। গ্লোবাল সাউথের স্বার্থরক্ষা থেকে শুরু করে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কিংবা নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত আজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। নরেন্দ্র মোদি সরকারের ধারাবাহিক, আত্মবিশ্বাসী এবং জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

 

এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে অর্থনীতিতে। ব্রিকস-ভুক্ত বৃহৎ ও দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির সঙ্গে গভীরতর সহযোগিতা ভারতের রপ্তানি, উৎপাদন, ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিষেবা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের সামনে নতুন বাজার খুলে দিতে পারে। অবকাঠামো, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, সেমিকন্ডাক্টর এবং শিল্পোৎপাদনে বিনিয়োগের ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হতে পারে। স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং বিকল্প অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার বিস্তার আন্তর্জাতিক লেনদেনের ব্যয় কমাতে, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি সীমিত করতে এবং ভারতীয় ব্যবসাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।

 

একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হলে তার সুফল সরাসরি পৌঁছবে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও দেশীয় শিল্পে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র লক্ষ্য তখন শুধু স্লোগান নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত একটি বাস্তব অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় পরিণত হবে।

 

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ব্রিকসের মধ্যে নিজের গুরুত্ব বাড়িয়েও ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান এবং অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে সমানভাবে সম্পর্ক গভীর করছে। এটাই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃত শক্তি—কোনও একটি শিবিরের অনুসারী না হয়ে, ভারতের স্বার্থকে সামনে রেখে সকলের সঙ্গে কথা বলা এবং নিজের শর্তে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

 

BRICS Summit ২০২৬ তাই শুধুমাত্র একটি সফল আন্তর্জাতিক আয়োজন নয়। এটি এমন এক ভারতের ঘোষণা, যে ভারত আর বিশ্ব রাজনীতির প্রান্তে দাঁড়িয়ে নেই; বরং বিশ্বব্যবস্থার নতুন সমীকরণ নির্মাণের টেবিলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের আসন দাবি করেছে। আর সেই উত্থানের কেন্দ্রে রয়েছে এক আরও দৃঢ়, স্বার্থসচেতন ও প্রভাবশালী ভারত।

← হোম পেজে ফিরে যান