বিএনপি ক্ষমতায়, বাংলাদেশের হিন্দুরা কী এখন নিরাপদ?

ABVP 14 February, 2026
বিএনপি ক্ষমতায়, বাংলাদেশের হিন্দুরা  কী এখন নিরাপদ?

 

  বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বিজয় তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের গভীর আস্থার প্রতিফলন।

২০২৬ বাংলাদেশ সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ। আওয়ামী লীগ বিহীন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে তারেক রহমানের বিএনপি না কি ১১-দলীয় জোট?
প্রশ্নের সমাধান করে অবশেষে ক্ষমতায়  এসেছেন বিএনপি ২১৩টি আসন জয়লাভ করে।

 দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষা আর জুলাই বিপ্লব পরবর্তী প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ভোটগণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং প্রাপ্ত সবশেষ ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ও তার মিত্ররা ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

 প্রশ্ন একটাই বিএনপি ক্ষমতায় তাহলে  বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা কি এখন নিরাপদ?

বাংলাদেশে একাধিক নির্বাচনের আগে-পরে আমরা সহিংসতা দেখেছি। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দুবিরোধী সহিংসতা হয়েছে। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের রায়ের পর মন্দির-বাড়িঘরের ওপর আক্রমণ হয়েছে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের পর নির্বাচনী সহিংসতা হয়েছে, ২০১৬ সালে নাসিরনগরের সহিংসতা এবং ২০২১ সালে দুর্গাপূজার সময় সহিংসতা হয়েছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় বলেন, ‘আপনারা এই দেশ ছেড়ে যাইয়েন না, দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই যদি দেশ ছেড়ে চলে যায়, আরেক ভাই ঠিকমতো বাঁচতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দু আর মুসলমান, বাঙালির দুই হাত। একটা হাত চলে গেলে আরেকটা হাত ঠিকমতো কাজ করে না। যত দিন আমি আছি, যত দিন আমার বয়স আছে, আপনারা থাকেন।’ এই বক্তৃতার ভিডিওতে দেখা যায়, সামনে বসে থাকা এক হিন্দু বৃদ্ধ চোখ মুছছিলেন, কান্না আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন।

নির্বাচনী জনসভায় যখন একজন প্রার্থী এমন কথা বলেন, তখন এটা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে সমাজে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় আছে, আশঙ্কা আছে। যদি ভয় না থাকে, তবে কাউকে তো এভাবে আশ্বস্ত করতে হয় না। এই ভয় শুধু আবেগ নয়, এর পেছনে অনেক স্তরের অভিজ্ঞতা আছে।

যেমন ধরুন-
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের সপ্তাহে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক খোলাচিঠিতে জানায়, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ৫২টি জেলায় সংখ্যালঘুদের ওপর ২০৫টি হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। যদিও সরকার এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছে এবং এই সংখ্যাকে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছে।

তারপর -
ধামরাইয়ে স্বামীকে খুঁটিতে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ হিন্দু যুবকদের।’ খবরের বর্ণনায় বলা হয়েছে, হিন্দু–অধ্যুষিত গ্রামে এক মুসলিম গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে হিন্দু যুবকদের দ্বারা রাতভর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বাস্তব ঘটনা কী ছিল? 
কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেল ঘটনাটা সম্পূর্ণরূপে ভুল। কিন্তু ততক্ষণ বিভিন্নভাবে হিন্দুদের উপর অত্যাচার শুরু হয় গেছে।

তারপর আমরা আরো দেখতে পাই-
ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসের উদাহরণ দেখি। দীপু চন্দ্র এক তরুণ পোশাকশ্রমিক, যাঁকে ‘নবী অবমাননা’র অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, বিবস্ত্র করে গাছে ঝুলিয়ে তাঁর মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তের বেরিয়ে এসেছে, দীপু ‘নবীকে গালাগাল করেছেন’, এ রকম কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু অনেক উগ্রবাদী মুসলিমরা এটাকে সমর্থন করে বলেছেন পরবর্তীতে এরকম বিচার আরো হবে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ২৭ এবং ২৮ নাম্বার অনুচ্ছেদে লিঙ্গ বৈষম্য এবং ধর্মীয় বৈষম্য প্রতিরোধ করার কথা বলা হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বিভিন্ন চাকরি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখতে পারি সরাসরি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হচ্ছে শুধুমাত্র পুরুষ এবং মুসলিম এপ্লিকেশন করতে পারবেন। এখানে হিন্দুদের চাকরির আবেদনে বৈষম্য প্রকাশ  দেখিয়ে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের মাঝে যে ভয়টা রয়েছে রাষ্ট্রকে এই ভয় বিবেচনা করতে হবে, বিএনপি যেন  সহনাগরিকদের প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতাকে এড়িয়ে না যায়। পূর্বের ইতিহাস বিবেচনা করে নির্বাচনের পূর্বে ও পরে অবশ্যই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

কলমে তিথি 

← হোম পেজে ফিরে যান