হুমায়ুন কবির সেলিম এবং বামেদের রাজনৈতিক জোট যেটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি বিশেষভাবে আলোচনার বিষয় হিসাবে উপস্থিত হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধর্মীয় ভাবাবেগসম্পন্ন নেতারা বামেদের জোটের সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি করেছে। এমত অবস্থায় 'ধর্মনিরপেক্ষতা' অর্থাৎ ' সেকুলারিজম' তত্ত্বটি একটি বড় প্রশ্নের মুখে সম্মুখীন হয়েছে। তত্ত্ব অপেক্ষা বাস্তবতা বেশ খানিকটা জটিল।
বামপন্থা সর্বদা ধর্ম এবং রাজনীতিকে পৃথক রাখার পক্ষপাতী। কিন্তু যদি রাজনীতিতে টিকে থাকতে গিয়ে কোন এক নির্দিষ্ট ধর্মীয় ভাবাবেগ সম্পন্ন শক্তির সাথে জোট বাঁধতে হয়। তবে বামেদের আদর্শে চির ধরতে বাধ্য। অবশ্য বামেরা বারবার ইসলামি শক্তির সঙ্গেই জোট করতে আগ্রহী হয়ে থাকে।
হুমায়ুন কবীর এবং সেলিম-এর মতো নেতারা যখন ধর্মীয় অধিকারের কথা বলেন তখন বামেদের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসঙ্গ সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই জোটের ফলের বামেদের ধর্মনিরপেক্ষ তত্ত্বটি ঠিক কতটা টিকবে তা নিয়ে প্রধানত কয়েকটি সংশয় দেখা যায়।
প্রথম: এই ধরনের জোটকে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ই সুবিধাবাদী বা সম্প্রদায়িক বলে প্রচার করা শুরু করতে পারে। ফলে বামেদের যে মূলধন-"আমরাই একমাত্র বিকল্প ও নীতিবাদ দল "-তা দুর্বল হবে অবশ্যই।
দ্বিতীয়: বামেদের মূল কথা হলো মানুষের অর্থনৈতিক পরিচয় কিন্তু হুমায়ুন কবীর ও সেলিমের মতো নেতাদের সাথে জোট করলে রাজনীতি ধর্মীয় পরিচিতির জালে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা বামেদের মূল আদর্শের বিপরীত। বাবরি মসজিদ নির্মাণের প্রসঙ্গ আর যাই হোক ধর্ম নিরপেক্ষতা নয়।
তৃতীয়: সেলিম বা সমগোত্রীয় কোন শক্তির সাথে জোট করলে বামপন্থার গায়ে সুবিধাবাদী রাজনীতির তকমা অনেক বেশি গভীর হবে। এতে তরুণ যে সমস্ত ভোটাররা কঠোর ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী তারা মুখ ফিরিয়ে নেবে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোন বামপন্থী ধর্ম নিরপেক্ষা নয়। গো মাংস গেলেও শূকরের মাংসে অরুচি। মুসলমান তোষণ বামেদের ধর্মনিরপেক্ষতার উল্টো পীঠ।
ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে এই ধরনের জোট হয়তো সাময়িক সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু বামেদের দীর্ঘ মেয়াদি "ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেকুলারিজম" তত্ত্বটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে যদি বামেরা তাদের মূল আদর্শ বজায় রেখে এই শক্তির সমর্থন পায় তবেই তাদের তত্ত্ব টিকে থাকবে।।
~পূর্বা হালদার