পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আসল কারিগর সঙ্ঘ

ABVP 05 June, 2026
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আসল কারিগর  সঙ্ঘ

২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাষ্ট্রবাদী সরকার ২০৮টি আসনে ঐতিহাসিক জয় লাভ করে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়েছে । এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে শুধুমাত্র রাষ্ট্রবাদী সরকারের নির্বাচনী কৌশল ও দৃশ্যমান রাজনৈতিক আন্দোলনই কাজ করেনি, বরং এর পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলোর বহু কালের নীরব ও দীর্ঘস্থায়ী লড়াই ।
 আরএসএস বাংলায় হঠাৎ কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটায়নি, বরং দেশভাগের সময়কাল এবং জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সময় থেকেই বাংলায় হিন্দুত্ববাদের একটি সামাজিক ভিত্তি তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল । বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল এর সময়কালে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও তারা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে গ্রামে-গঞ্জে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে ।

২০২৬-এর নির্বাচনে আরএসএস কোনো বড় রাজনৈতিক মঞ্চ বা কোলাহল ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে মৃদু স্বরে ঘরে ঘরে প্রচার চালায়। সংঘের স্বয়ংসেবকরা প্রায় ২ লক্ষ ছোট ছোট গোষ্ঠী বৈঠক করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছান ।
 
 বাংলার নির্বাচনী হিংসার আবহে সাধারণ ভোটাররা যাতে ভয় না পেয়ে বুথ পর্যন্ত যান, সেই আত্মবিশ্বাস জোগানোর কাজ করেছিলেন সংঘের কর্মীরা । তারা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেন যে পরিবর্তনের জন্য তাদের ভোট দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ।
 
আরএসএস-এর বিভিন্ন শাখা সংগঠন, যেমন সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে 'সীমান্ত চেতনা মঞ্চ' জাতীয় নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশের ইস্যু তুলে ধরে এবং আদিবাসী অঞ্চলে 'বনবাসী কল্যাণ আশ্রম' দীর্ঘকাল ধরে সামাজিক কাজ করে এক বিশাল ভোটব্যাংক তৈরি করে ।এছাড়া মহিলাদের মধ্যে পৌঁছাতে ছোট ব্যবসার সাথে যুক্ত মহিলাদের মাধ্যমেও সামাজিক ভাবে প্রচার কার্য চালান।

আরএসএস অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বাংলার সনাতনী সমাজকে একজোট করার কাজ করেছে । দুর্গাপূজা, রামনবমী বা হনুমান জয়ন্তীর মতো উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে হিন্দু ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক শক্তির সমার্থক করে তুলতে মাঠপর্যায়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল আরএসএস-এর । 


রাষ্ট্রবাদী সরকারের রাজনৈতিক লড়াই, 
১. রাষ্ট্রবাদী সরকার এর এই জয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক জনপ্রিয়তা । 

২.  রাস্ট্রবাদী সরকার অত্যন্ত কৌশলে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের নিজেদের শিবিরে টেনে নিয়েছিল, যা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে দুর্বল করে দেয় ।

৩. রাষ্ট্রবাদী সরকার বাংলায় কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুবসমাজ ও মধ্যবিত্তের মন জয় করে ।

 তৃণমূল সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে স্থানীয় স্তরের দুর্নীতি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং নিয়োগ কেলেঙ্কারি সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল ।

 এই নির্বাচনে মুসলিম ভোটের একটি অংশ বিভক্ত হওয়া এবং সনাতনপন্থী ভোটারদের সম্পূর্ণ একত্রীকরণ রাষ্ট্রবাদী সরকারের জয়ের পথ শক্ত করে।

উপসংহার
২০২৬ সালের বাংলার এই মহাজোট বা মহাবিপ্লব কোনো একক শক্তির অবদান নয়। আরএসএস যদি মাটির নিচে শিকড় শক্ত করার কাজ করে থাকে, তবে বিজেপি সেই শিকড়ের ওপর ভর করে রাজনৈতিক বৃক্ষটি রোপণ করেছিল আরএসএস-বহু কালের পরিশ্রম, লড়াই, প্রচার ছাড়া বিজেপি কখনোই তৃণমূলের মতো শক্তিশালী দলকে ২০৭টি আসনে হারিয়ে  সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেত না । তাই এই ঐতিহাসিক জয়কে বিজেপি এবং আরএসএস-এর একটি অত্যন্ত সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি এবং সুপরিকল্পিত যৌথ লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফল হিসেবেই দেখা যায়।।

কলমে পূর্বা হালদার.

← হোম পেজে ফিরে যান